কিডনি স্টোনের লক্ষণ ও প্রতিকার: কবে ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন?

Updated on: Tuesday, November 18, 2025

লেখক: ডাঃ মোঃ নাসির উদ্দিন – অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্ট, NIKDU

কিডনি স্টোন বা কিডনিতে পাথর হলো একটি সাধারণ কিন্তু খুব কষ্টকর সমস্যা। এটি কোনো সময়ে হঠাৎ সৃষ্টি হতে পারে এবং অনেক সময় রোগী বুঝতে পারতেই পারেন না। আমার ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে আজ আমি বিস্তারিত জানাচ্ছি কিডনি স্টোনের লক্ষণ, প্রতিকার এবং কখন ডাক্তার দেখানো জরুরি।


কিডনি স্টোনের প্রধান লক্ষণ

  1. প্রস্রাবের সময় ব্যথা
    • সাধারণত কোমর, পিঠ বা পাশের দিকে তীব্র ব্যথা হয়।
    • ব্যথা কখনও ঢেউয়ের মতো আসে, কখনও ধারাবাহিক।
  2. রক্তমিশ্রিত প্রস্রাব
    • প্রস্রাবে লাল বা বাদামী রঙ দেখা দিলে এটি কিডনি স্টোনের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
  3. প্রস্রাবে সমস্যা
    • ধীরে ধীরে বা ছোট ছোট প্রস্রাব, বারবার প্রস্রাব হওয়া, অথবা প্রস্রাবের সময় জ্বালা।
  4. অস্বস্তি ও বমি-মনেও সমস্যা
    • তীব্র ব্যথার সঙ্গে বমি বা বমিভাব আসতে পারে।
    • শরীরের পানিশূন্যতা ও ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
  5. জ্বর ও ঠান্ডা লাগা
    • যদি স্টোনের সঙ্গে সংক্রমণ যুক্ত হয়, জ্বর, ঠান্ডা লাগা বা পিঠে তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেখা দিতে পারে।

⚠️ লক্ষ্য করুন: উপরের লক্ষণগুলো দেখা দিলে ডাক্তারকে অবিলম্বে দেখানো জরুরি, বিশেষ করে যদি ব্যথা সহ জ্বর ও বমি থাকে।


কিডনি স্টোনের প্রধান কারণ

  • জীবনধারা: কম পানি পান, অতিরিক্ত প্রোটিন বা সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য।
  • পরিবারিক ইতিহাস: পরিবারে যদি কারও কিডনি স্টোন থাকে, ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণ: কিছু ওষুধ, যেমন সাপ্লিমেন্ট বা ডায়ুরেটিক ওষুধ।
  • বিস্তারিত পুষ্টি সমস্যা: অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম, অক্সালেট বা ইউরিক অ্যাসিডের কারণে পাথর।

কিডনি স্টোন প্রতিকার ও চিকিৎসা

কিডনি স্টোনের চিকিৎসা রোগীর বয়স, স্টোনের আকার ও অবস্থান অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। আমি সাধারণত রোগীদের জন্য নিচের ধাপগুলো প্রয়োগ করি:

১. প্রাথমিক যত্ন (Home Remedies)

  • পর্যাপ্ত পানি পান করা: দিনে ২–৩ লিটার পানি।
  • লবণ ও প্রোটিন সীমিত করা।
  • ব্যথা ও সংক্রমণ কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ।

২. মেডিকেল ট্রীটমেন্ট

  • ওষুধ দ্বারা স্টোন মুক্তি: ছোট পাথর প্রায়ই ওষুধ দিয়ে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করা যায়।
  • বেদনানাশক ও সংক্রমণ প্রতিকার: ব্যথা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

৩. ল্যাপারোস্কোপিক বা লেজার সার্জারি

  • বড় স্টোন বা জটিল অবস্থায় ল্যাপারোস্কোপিক বা হোলস্টোন/লেজার পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
  • Endourology & Minimally Invasive Surgery প্রযুক্তি দিয়ে দ্রুত ও নিরাপদ স্টোন অপসারণ।

৪. পুনঃপ্রতিরোধ

  • নিয়মিত পানি পান করা, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও কিডনি ফাংশন পর্যবেক্ষণ।
  • বছরে একবার ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

কখন ডাক্তার দেখানো অবশ্যক?

  • তীব্র কোমর বা পিঠের ব্যথা যা ২৪–৪৮ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী।
  • প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিলে।
  • জ্বর, বমি বা প্রস্রাবজনিত সংক্রমণের লক্ষণ।
  • পুরনো কিডনি সমস্যা বা স্টোনের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত চেকআপ।

মনে রাখুন, সময়মতো চিকিৎসা করলে কিডনি স্টোনের জটিলতা কমে যায় এবং জীবনধারায় স্বাভাবিকতা ফিরে আসে।


উপসংহার

কিডনি স্টোন একটি সাধারণ কিন্তু অসুস্থতা জনিত সমস্যা। ডাঃ মোঃ নাসির উদ্দিন হিসেবে আমি সবসময় রোগীদের পরামর্শ দিই—প্রতি লক্ষণ নজর দিয়ে প্রাথমিক সতর্কতা নেওয়া জরুরি। যদি ব্যথা, রক্তমিশ্রিত প্রস্রাব বা সংক্রমণ দেখা দেয়, অবিলম্বে একজন অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন।

অপয়েন্টমেন্ট বুক করতে এখানে ক্লিক করুন: Book Appointment

More Health Tips & Guides From Dr. Md. Nasir Uddin

Stay updated with the latest urology tips, guides, trends and insights on kidney and urinary health, treatments, and preventive care.

WhatsApp Dr. Md. Nasir Uddin